মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও কিছু আইন

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, আইন ও জটিলতা এই বিষয়টি কোরামের সকলের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হল।

এক নজরে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া :

(১) প্রস্তাব পেশ

(২) সরজমিন প্রাথমিক যাচাই ও জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির সুপারিশ

(৩) সরজমিন যাচাই ও ভিডিওকরণ

(৪) রেকর্ড সংগ্রহ

(৫) দাগসূচী প্রস্তুত

(৬) ভূমি বরাদ্দ কমিটির সিদ্ধান্ত

(৭) ৩ ধারার নোটিশ জারি (

৮) যৌথ তদন্ত

(৯) আপত্তি শুনানী

(১০) ক্ষেত্রমত কমিশনার/সরকারের অনুমোদন

(১১) ৬ ধারার নোটিশ জারি

(১২) প্রাক্কলন প্রস্তুত

(১৩) প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক তহবিল যোগান

(১৪) রোয়েদাদ প্রস্তুত

(১৫) ৭ ধারার নোটিশ জারি

(১৬) ক্ষতিপূরণ প্রদান আরম্ভ

(১৭) দখল হস্তান্তর

(১৮) গেজেট বিজ্ঞপ্তি

(১৯) আরবিট্রেশন মামলা ও নিষ্পত্তি

(২০) হস্তান্তর দলিল সম্পাদন (বেসরকারী সংস্থার ক্ষেত্রে)

(২১) নামজারি

(২২) হিসাব সমন্বয়

(২৩) রেকর্ড সংরক্ষণ

 

এক নজরে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া :

(১) প্রস্তাব পেশ :- ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সর্বপ্রথম সংশ্লিষ্ট প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক জেলা প্রশাসক বরাবর প্রস্তাব পেশ করবেন।

(২) সরজমিন প্রাথমিক যাচাই ও জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির সুপারিশ :- প্রস্তাব পাওয়ার পর সরেজমিনে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহনের করা যাবে কিনা সে বিষয়ে জেলা স্থান নির্বাচন কমিটি সুপারিশ করবেন।

(৩) সরজমিন যাচাই ও ভিডিওকরণ :- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং প্রত্যাশী সংস্থার সমন্বয়ে সরেজমিন যাচাই ও ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়।

(৪) রেকর্ড সংগ্রহ :- প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক প্রস্তাব দাখিলের পর প্রস্তাবিত ভূমির রেকর্ড সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিস ও জেলা রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহ করা হয়।

(৫) দাগসূচী প্রস্তুত :- প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক দাখিলকৃত প্রস্তাবিত ভূমির দাগসূচী যাচাই করে তার সঠিকতা নির্ধারণ করা হয়।

(৬) ভূমি বরাদ্দ কমিটির সিদ্ধান্ত :- উপরোক্ত বিষগুলো ভূমি বরাদ্দ কমিটি কর্তৃক আলোচনা ও যাচাই পূর্বক প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদন করা হয়।

(৭) ৩ ধারার নোটিশ জারি :- ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদনের পর এল.এ কেস রুজুর করে খতিয়ান অনুযায়ী জমির মালিককে ৩ ধারার নোটিশ জারি করা হয়।

(৮) যৌথ তদন্ত : ৩ ধারার নোটিশ জারির ৩ (তিন) দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও প্রত্যাশী সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ভূমির যৌথ তদন্ত করা হয়।

(৯) আপত্তি শুনানী :- ৩ ধারার নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে জমির মালিকগণ তাদের আপত্তি থাকলে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করলে তার উপর আপত্তি শুনানী করা হয়।

(১০) ক্ষেত্রমত কমিশনার/সরকারের অনুমোদন :- আপত্তি শুনানী করে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিভাগীয় কমিমনার/সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়।

(১১) ৬ ধারার নোটিশ জারি

(১২) প্রাক্কলন প্রস্তুত

(১৩) প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক তহবিল যোগান

(১৪) রোয়েদাদ প্রস্তুত

(১৫) ৭ ধারার নোটিশ জারি

(১৬) ক্ষতিপূরণ প্রদান আরম্ভ :- জমির মালিকগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভূমির মূল কাগজপত্র যাচাই বাছাই পূর্বক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।

(১৭) দখল হস্তান্তর :- প্রত্যাশী সংস্থার নিকট থেকে জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার পর যে কোন সময় অধিগ্রহণকৃত জমি উক্ত সংস্থার অনুকূলে দখল হস্তান্তর করা যাবে।

(১৮) গেজেট বিজ্ঞপ্তি :- অধিগ্রহণকৃত ভূমি প্রত্যাশী সংস্থার অনুকূলে দখল হস্তান্তর করার পর বর্ণিত জমি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

(১৯) আরবিট্রেশন মামলা ও নিষ্পত্তি :- ভূমির মালিকগণ ক্ষতিপূরণ মূল্য কম পাচ্ছেন বলে মনে করলে ফরম ‘বি’ এর মাধ্যমে নালিশি আদালতে আরবিট্রেশন মামলা করতে পারেন। মামলার চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

(২০) হস্তান্তর দলিল সম্পাদন :- সরকারী সংস্থার ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য নয়। বেসরকারী /স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক কর্তৃক হস্তান্তর দলিল সম্পাদন করা হয়।

(২১) নামজারি :- সরকারী/বেসরকারী/স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে দাগসূচী ও গেজেটের কপি/হস্তান্তর দলিল অনুসারে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারীর জন্য প্রেরণ করা হয়।

(২২) হিসাব সমন্বয় :- ক্ষতিপূরণে অর্থ কি পরিমান প্রদান করা হয়েছে এবং কত অবশিষ্ট আছে তার হিসাব সমন্বয় করা হয়।

(২৩) রেকর্ড সংরক্ষণ :- নামজারি হওয়ার পর এল.এ কেসটি কনসাইনমেন্ট এর জন্য জেলা রেকর্ডরুমে প্রেরণ করা হয়।

 

Responsibility of Required Body :

১। ভূমি প্রত্যাশী সংস্থা/ব্যক্তি কর্তৃক কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির এখতিয়ারভূক্ত এলাকার ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে নিন্মোক্ত কাগজাদি সংযুক্ত করে ভূমি অধিগ্রহণের প্র¯তাব পেশ করবেন। সরকারী, আধাসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার অধিগ্রহণ প্রস্তাবের সাথে কাগজপত্র/তথ্যাদি (প্রত্যেকটি ৫ কপি করে) সংযুক্ত থাকতে হবে ঃ

( ক) প্রত্যাশী সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রাšত প্রশাসনিক অনুমোদনপত্র (পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্র¯তাবের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনপত্র কিংবা অনুমোদিত প্রকল্প সারপত্র);

( খ) ন্যুনতম জমির প্রয়োজনীয়তা সংক্রাšত প্রত্যয়নপত্র;

( গ) প্রস্তাতাবিত জমির দাগসূচি (সর্বশেষ জরিপের মৌজার নাম, জেএল নং, দাগ নং, দাগের শ্রেণী, দাগে মোট জমির পরিমান, অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমির পরিমান উল্লেখ থাকতে হবে;

( ঘ) লে-আউট পান;

(ঙ) নক্সা। সর্বশেষ জরিপের নক্সায় প্র¯তাবিত জমির সীমানা লাল কালি দ্বারা চিহ্নিত করে দেখাতে হবে। প্রস্তাবিত জমির সীমানার ভিতরে অধিগ্রহণের যোগ্য নহে এমন ভূমি যথা ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশান থাকলে বা অধিগ্রহণ করা যাবে না এমন জমি থাকলে তা ভিন্ন কালিতে চিহ্নিত করে দিতে হবে এবং সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা নক্সায় উল্লেখ করে দিতে হবে;

( চ) নির্ধারিত ছকে বর্ণনা। ছকের প্রত্যেকটি কলাম যথাযথভাবে পূরণ করে দিতে হবে। ছকের নির্ধারিত স্থানে স্থান সংকুলান না হলে ভিন্ন কাগজে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে সংযোজন করতে হবে;

( ছ) রাজউক; কেডিএ; সি.ডি.এ; আর ডি এ; সিটি কর্পোরেশন; পৌরসভা-এর অনাপত্তিপত্র (যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য)।

( জ) নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর এর অনাপত্তিপত্র (কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির আওতাভূক্ত এলাকার ক্ষেত্রে);

(ঝ) প্রকল্পের জন্য আর্থিক মঞ্জুরী কিংবা বাজেট বরাদ্দ সংক্রাšতপত্র;

( ঞ) পুরোনো দপ্তর/স্থাপনার পরিবর্তে নতুন দপ্তর/স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্র¯তাবের ক্ষেত্রে পুরোনো দপ্তর/স্থাপনার জমি কালেক্টরেটের নিকট সমর্পণ করা হবে এই মর্মে অঙ্গীকারপত্র;

(ট) প্রকল্পের বি¯তারিত বর্ণনা (আবাসিক/অফিস ভবনের ক্ষেত্রে ভবনের সংখ্যা, প্রতিটি ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমান, ভবন ব্যতীত অন্যান্য কোন কোন কাজের জন্য কি পরিমান জমির প্রয়োজন তার বিস্তারিত বিবরণ, রাস্তা, বাঁধ ও খাল খনন প্রকল্পের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বিবরণসহ মূল রা¯তা বাঁধ ও খালের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমান, মূল রা¯তার পার্শ্ববর্তী জমি, বাঁধ ও খালের পাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমান উলেখ করতে হবে;

 

২। বেসরকারী সংস্থা/ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত অধিগ্রহণ প্র¯তাবের সাথে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র/তথ্যাদি প্রত্যেকটির ৫(পাঁচ) কপি সংযুক্ত করে দিতে হবে : -

(ক) প্র¯তাবিত প্রকল্প/উদ্দেশ্যের সারপত্র। উহা বা¯তবায়নের জন্য অর্থায়নের উৎস এবং অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের নিশ্চয়তাপত্র;

( খ) নূন্যতম জমির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রত্যয়নপত্র ’

(গ) প্র¯তাবিত জমির দাগসূচি (সর্বশেষ জরিপের মৌজার নাম, জেএল নং, দাগ নং, দাগের শ্রেণী, দাগে মোট জমির পরিমান, অধিগ্রহণের জন্য প্র¯তাবিত জমির পরিমান উল্লেখ থাকতে হবে;

( ঘ) লে-আউট পান;

( ঙ) সর্বশেষ জরিপের নক্সা (প্র¯তাবিত জমি লাল কালি দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।

( চ) বিধিমালার ৭ নং বিধিতে ‘ছ’ ফরমে সম্মতিপত্র (১৫০/- নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পের উপর);

( ছ) রাজউক; কেডিএ; সি.ডি.এ; আর ডি এ; সিটি কর্পোরেশন; পৌরসভা-এর অনাপত্তিপত্র (যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য)।

( জ) প্রকল্পের বি¯তারিত বর্ণনা। ‘৬’ ধারা নোটিশ জারীর পর পত্র জারীর ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের প্রাক্কলিত অর্থ সরকারী খাতে জমা দিবেন।

 

জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি :

১. জেলা প্রশাসক সভাপতি

২. পুলিশ সুপার সদস্য

৩. সিভিল সার্জন সদস্য

৪. নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ সদস্য

৫. উপ-পরিচালক, কৃষি বিভাগ সদস্য

৬. মেয়র, পৌরসভা (যদি থাকে) সদস্য

৭. উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সংশ্লিষ্ট) সদস্য

৮ ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা সদস্য

৯. খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ক্ষেত্রে কেডিএ, সিডিএ ও আর ডিএর প্রতিনিধি সদস্য

১০ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব/এল.এ) সদস্য সচিব (যে সকল জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সদস্য সচিব এল.এ কর্মরত আছেন, সে সব জেলায় তিনি সদস্য সচিব হিসাবে থাকবেন)। এই কমিটি কর্তৃক অধিগ্রহণ যোগ্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়।

 

জেলা স্থান নির্বাচন কমিটি :

১ জেলা প্রশাসক সভাপতি

২ পুলিশ সুপার সদস্য

৩ সিভিল সার্জন সদস্য

৪ নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ সদস্য

৫ নির্বাহী/সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য বিভাগ সদস্য

৬ ভূমি প্রত্যাশী সংস্থার প্রতিনিধি সদস্য

৭ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (অধিগ্রহণের দায়িত্বে) সদস্য সচিব

 

(২) কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি :

১ মাননীয় মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয় সভাপতি

২ সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয় সদস্য

৩ সচিব, পলী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সদস্য

৪ সচিব, গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয় সদস্য

৫ সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ সদস্য

৬ সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় সদস্য

৭ সচিব, বন মন্ত্রণালয় সদস্য

৮ সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় সদস্য

৯ সচিব, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় (রেলওয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ) সদস্য

১০ কমিশনার, ঢাকা বিভাগ সদস্য

১১ চেয়ারম্যান, রাজউক সদস্য

১২ জেলা প্রশাসক, ঢাকা সদস্য

১৩ পরিচালক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর সদস্য

১৪ জেলা প্রশাসক, গাজীপুর সদস্য

১৫ জেলা প্রশাসক, নরসিংদী সদস্য

১৬ জেলা প্রশাসক, নারায়নগঞ্জ সদস্য

১৭ জেলা প্রশাসক, খুলনা সদস্য

১৮ জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম সদস্য

১৯ উপসচিব, ভূমি মন্ত্রণালয় সদস্য

 

জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি:

নিম্নলিখিত থানা/এলাকাসমূহ জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির এখতিয়ার ভূক্ত :-

সংশ্লিষ্ট জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদনের এখতিয়ার ৫০ বিঘা পর্যন্ত। সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে জমির পরিমান যাহা হোক না কেন তার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির। সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৫০ বিঘা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক অনুমোদন করবেন তবে এক্ষেত্রে কোন আপত্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

 

জেলা স্থান নিবাচন কমিটি:

নিম্নলিখিত থানা/এলাকাসমূহ জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির এখতিয়ার ভূক্ত :- সংশ্লিষ্ট জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে জমির পরিমান যাই হোক না কেন জেলা সদরে নতুন দপ্তর/ স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়/ জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটিতে প্রস্তাব প্রেরণের পূর্বে জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি :

নিম্নলিখিত থানা/এলাকাসমূহ কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির এখতিয়ার ভূক্ত ঃ- কোতয়ালী, লালবাগ, রমনা, সূত্রাপুর, মতিঝিল, কেরাণীগঞ্জ, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, গুলশান, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, টঙ্গী, রূপগঞ্জ, ক্যান্টনমেন্ট, সাভার, জয়দেবপুর, নারায়নগঞ্জ, ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নরসিংদী এবং ডেমরা (১৯৮০ ইং সনের পর উল্লেখিত থানা বিভক্ত হয়ে কোন নতুন থানা সৃষ্টি হলে কিংবা ভবিষ্যতে আরো বিভক্ত হলে উক্ত থানা এলাকাও অন্তর্র্ভূক্ত হবে)। এছাড়া সকল সিটি কর্পোরেশন এলাকার জমি কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি কর্তৃক প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 

Compensation Assessments : (ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ)

ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ : ৮ ও ৯ ধারার বিধানাবলী অনুসারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে।

ধারা- ৮ (১) ক) ৩ ধারার নোটিশ জারির সময় সম্পত্তিটির বাজার দর, তবে বাজার দর নির্ধারণ করার সময় নির্ধারিত নিয়মে হিসাবকৃত একই ধরণের এবং পারিপার্শ্বিক এলাকার সমান সুবিধাযুক্ত সম্পত্তির ৩ ধারার নোটিশ জারির পূর্বের ১২ মাসের গড় মূল্য জেলা প্রশাসক বিবেচনা করবেন;

খ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক দখল গ্রহণের সময় সম্পত্তিটি অন্য সম্পত্তি হতে পৃথক করা স্বার্থ সম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষতি;

গ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক দখল গ্রহণের সময় অন্য স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি অথবা উপার্জনের ক্ষতি দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতি;

ঘ) যদি অধিগ্রহণের ফলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবাসস্থল অথবা ব্যবসাকেন্দ্রকে স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয় তবে ঐ ধরণের স্থানান্তরের খরচ; এবং

ঙ) জেলা প্রশাসকের ৬ ধারার নোটিশ জারীর তারিখ এবং দখলগ্রহণের তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে সম্পত্তি বাবদ আয় হ্রাসের দরুণ ক্ষতি;

 

ধারা-৮ (২) বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ প্রকৃতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক (১) উপধারায় বর্ণিত বাজার দরের উপর অতিরিক্ত শতকরা ৫০% ক্ষতিপূরণ দিবেন। (৩) পাকা কিংবা কাঁচা ভবন অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে গণপূর্ত দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনাক্রমে নির্মাণ ব্যয় প্রবেশ পথ নির্মাণ এবং জমি উন্নয়ন খরচ ও ভবনের অপচয় এর প্রতি নজর রেখে বাজার দর নির্ধারণ করতে হবে। বিঃ দ্রঃ প্রস্তাবিত জমির উপরে অবস্থিত বাড়ি/ঘর, অবকাঠামো, গাছপালা, ফসল ও অন্যান্য যাহা কিছু থাকলে তার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে।

 

ঘরবাড়ী/অবকাঠামোর মূল্য নির্ধারণ :-

ঘরবাড়ী/অবকাঠামোর বাজার দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগ এলজিইডি কর্তৃক নির্ধারিত রেট সিডিউল অনুসরণ করাহয়। ঘরবাড়ী নির্মাণের সময় ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে বর্তমান নির্মাণ খরচের উপর অবকাঠামো বয়স অনুসারে ১-৫ বছর ১%, ৫- ১০ বছর ২%-৩%, ১০- ১৫ বছর ৩%- ৫% ততোর্ধ ১০% কমে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

পুকুরের মূল্য নির্ধারণ :-

পুকুর সংলগ্ন বা নিকটবর্তী নাল (বিলান) জমির মূল্যহারে পুকুরের জমির মূল্য নির্ধারণ হবে। তবে পুকুর সংলগ্ন নাল জমি না থাকলে- পুকুরের পাড়ের মূল্য “চালা” শ্রেণীর জমির মূল্য হারে মূল্য নির্ধারণ হবে।

(২) মূল পুকুর অংশের মূল্য-ভিটি শ্রেণীর জমির মূল্যের ২/৩ ভাগ হারে মূল্য নির্ধারণ হবে। এর সাথে গণপূর্ত বিভাগ হতে পুকুরের খনন মূল্য সংগ্রহ করে যোগ করতে হবে। এইভাবে নির্ধারিত মোট মূল্যের সাথে মৎস্যের ক্ষতিপূরণ এবং পুকুর মালিকের উপার্জনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১% মূল্য যোগ হয়ে পুকুরের মোট ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হবে। মৎস্যের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য মৎস্য অফিসারের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নাই।

 

গাছপালার মূল্য নির্ধারণ :-

প্রস্তাবাধীন জমিতে দন্ডায়মান গাছপালা জমির মালিককে কেটে নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। যদি মালিক গাছপালা অপসারণে আগ্রহী না হন তবে বন বিভাগ থেকে গাছপালার মূল্য হার সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ গাছপালার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তবে পেপে, কলাগাছ ইত্যাদি অজ্বালানী গাছের মূল্য প্রদান করতে হবে না।

 

দন্ডায়মান ফসলের মূল্য নির্ধারণ :-

মোট যে উৎপাদন হতে পারে তার মূল্য হার নির্ধারণ করে দন্ডায়মান ফসলের ক্ষতিপূরণ হিসাব প্রস্তুত করতে হবে। ফসলের একর প্রতি উৎপাদন হার সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ থেকে এবং মূল্য হার সংশ্লিষ্ট জেলা বাজার পরিদর্শকের নিকট থেকে সংগ্রহ করে মোট মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। জমির বর্গাদার থাকলে নিয়মানুসারে তার জন্য ভিন্নভাবে ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ তৈরী করতে হবে।

 

ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ :-

(১) আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলে বার্ষিক আয়ের ১/৪ অংশ;

(২) আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান না হলে বার্ষিক আয়ের ১/৪ অংশ অথবা ঐ বছরের যে পরিমান আয়ের জন্য আয়কর প্রদানযোগ্য নয় তার ১/৪ অংশএই দুইয়ের মধ্যে যে হিসাব কম হবে সেই পরিমান অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদেয় হবে।

 

ঘরবাড়ী স্থানান্তর ব্যয় :- কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ঘরবাড়ীর ক্ষতিপূরণ না নিয়ে স্থানান্তরযোগ্য ঘরবাড়ী স্থানান্তর করলে গণপূর্ত বিভাগের সাথে পরামর্শ পূর্বক যুক্তিসঙ্গত স্থানান্তর ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে।

অতিরিক্ত ব্যয় :- উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫০% অতিরিক্ত যোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের জন্য প্রদেয় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে।

আনুসংগিক খরচ :- ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের প্রদেয় ক্ষতিপূরণে সাথে নিম্নবর্ণিত হারে আনুসংগিক খরচ যোগ করে মোট প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে হবে।

(১) সরকারী প্রস্তুবের ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত অর্থের উপর ৩% হারে এবং তদুর্ধ হলে ২% হারে;

(২) আধাসরকারী/সায়ত্বশাসিত সংস্থার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত অর্থের উপর ১০% হারে এবং তদুর্ধ হলে ৭.৫০% হারে ও

(৩) বেসরকারী/ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যে কোন অংকের প্রাক্কলিত অর্থের উপর ১৫% হারে।

 

Eviction Procedures : (Related Laws and Execution procedures)

বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) আদেশ- ১৯৭২ আওতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই আইনের বিধান মোতাবেক জেলা প্রশাসক একটি মিস কেস রুজু করবেন।

ধারা- ৩ ও ৪ :- এই আইনের ৩ ধারামতে ৩০ দিনের সময় দিয়ে ইমারত বা অন্যান্য কাঠামো অপসারণের জন্য অবৈধ দখলদারকে ৪ ধারামতে নোটিশ প্রদান করবেন।

ধারা- ৫ :- যদি জেলা প্রশাসক মনে করেন ৩০ দিনের সময় দেয়া জনস্বার্থেও অনুকূল নয় তখন তিনি অনধিক ৭ দিনের সময় দিয়ে ৫ ধারামতে নোটিশ জারী করতে পারেন।

ধারা-৬ :- যে কোন ভূমি, ইমারত বা এর অংশ খাস দখল পুনরুদ্ধারকল্পে ৩ ধারা বা ৪ ধারা বা ৫ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে বা করাতে পারেন।

ধারা- ৭ (১) :- কোন ব্যক্তি কোন ভূমি বা ইমারত বা এর অংশ অননুমোদিতভাবে দখলদার তখন জেলা প্রশাসক। তিনি এ বিষয়টি তার নিজস্ব এখতিয়ারভূক্ত পুলিশ স্টেশনে সংবাদ জানাবেন। এ ধরণের অননুমোদিতভাবে দখলের অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব ২ বছর কারাদন্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দন্ড প্রযোজ্য হবে।

(২) এছাড়াও ৭ (২) উপধারা মোতাবেক এ জাতীয় অপরাধ আদালত গ্রাহ্য এবং জামিন অযোগ্য হিসাবে ফৌজদারী কার্যবিধি (১৯৯৮ সনের পঞ্চম আইন) মতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর কার্যক্রমে বিচারযোগ্য।

৮ ধারা :- ৩ ধারা বা ৪ ধারা বা ৫ ধারামতে উল্লেখিত মেয়াদ অতিক্রম হবার পর সরকার অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ( যেখানে যা প্রযোজ্য) বরাবরে বাজেয়াপ্ত হবে।

১০ ধারা :- ৩ ধারা বা ৪ ধারা বা ৫ ধারা বা ৯ ধারামতে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি নোটিশ জারীর ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের বরাবরে আপীল করতে পরবেন।

১১ ধারা :- এই আইনের ১১ ধারামতে কোন দেওয়ানী আদালতে কোন মামলা বা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বা অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারী করতে পারবে না।

 

অবমুক্ত (De-Requisition) সম্পত্তি (জরুরী) হুকুম দখল আইন ১৯৪৮ এর ৮ (এ) ও (বি) ধারা মোতাবেক প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক অধিগ্রহণপ্রাপ্ত অব্যবহৃত বা অপ্রয়োজনীয় সম্পত্তি প্রত্যাশি সংস্থার সুপারিশক্রমে পূর্ব মালিক বা তাদের ওয়ারেশদের অনুকূলে ফেরত প্রদানের বিধান রয়েছে। তবে ৭ (৫) ধারা মতে অধিগ্রহণ কেসটি গেজেটে চূড়ান্ত প্রকাশিত হলে বর্ণিত সম্পত্তি অবমুক্ত করার সুযোগ নেই।

 

RESUME (পুনঃগ্রহণ) স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং সম্পত্তি হুকুম দখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ১৭ (১) ও (২) ধারা এবং স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়াল ১৯৯৭ এর ৭৭ (ক), (খ) ও ৭৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক প্রত্যাশী সংস্থার অনুকূলে অধিগৃহীত সম্পত্তি যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে অথবা অব্যবহৃত রাখা হলে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি জেলা প্রশাসক কর্তৃক পুনঃগ্রহণ করে সরকারী খাস খতিয়ানে আনায়ন পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 

Different Laws: The Land Acquisition Act, 1894.(ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ১৮৯৪) ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৪ সনের ২ ফেব্রুয়ারি জনকল্যাণমূলক ও কোম্পানি কাজে জমি গ্রহণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইন পাস করেন। এই আইন সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে প্রযোজ্য হয়। এই আইন ১৮৯৪ সালের পহেলা মার্চ হতে সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে কার্যকর করা হয়। এ আইনে অধিগ্রহণ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়, ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ করার জন্য সময়মত জমির দখল পাওয়া সম্ভবপর হয় না।

 

সম্পত্তি (জরুরী) হুকুম দখল আইন- ১৯৪৮ ( ১৯৪৮ সালের ১৩ নং আইন) [The (Emergency) Requisition of Property Act 1948] নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বাসন ও সংস্কারমূলক কাজের স্বার্থে ১৯৪৭ সনের পূর্ববঙ্গ অধিগ্রহণ আইন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে পাকিস্তান সরকার পূর্ববঙ্গ সম্পত্তি হুকুম দখল অধ্যাদেশকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ১৯৪৮ সনের পূর্ববঙ্গ সম্পত্তি (জরুরী) হুকুম দখল আইন পাশ করেন।

 

The Acquisition of Waste Land Act, 1950. এই আইন শুধুমাত্র মিউনিসিপ্যাল এলাকার বহির্ভূত ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। শুধুমাত্র জনকল্যাণকর কাজের জন্য এই আইনে জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

 

The Chittagong Hill Tracts (Land Acquisition) Requisition, 1958 তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম (বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) পাহাড়ী এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়।

 

The Hats and Bazars (Establishment and Acquisition) Ordinance, ১৯৫৯. হাট-বাজার স্থাপন এবং স্থাপিত হাট-বাজার সরকারী নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়।

 

স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং সম্পত্তি হুকুম দখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ (১৯৮২ সালের ২নং অধ্যাদেশ) (The Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, , ১৯৮২.) স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল সংক্রান্ত আইনের একত্রীকরণ ও সংশোধন এবং এতদসংক্রান্ত ও সহায়ক বিষয়ে বিধান প্রণয়নের প্রয়োজন হওয়ায় ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ এই ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক সন্তুষ্টির সাথে তার উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে অধিগ্রহণের কার্যক্রম এই আইনের আওতায় সম্পাদিত হয়। সম্পত্তি জরুরী অধিগ্রহণ আইন- ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ৯নং আইন) ইহা প্রবর্তনের তারিখ থেকে ৫(পাঁচ) বছর বলবৎ থাকবে। ‘‘যেহেতু প্লাবন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও জলোচ্ছাস নিয়ন্ত্রণকল্পে এবং নদী-ভাংগন রোধ করার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে জরুরী ভিত্তিতে সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু এতদ্বারা এই আইন প্রণয়ন করা হয়।” যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহণ) আইন, ১৯৯৫ এই আইন শুধুমাত্র যমুনা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে।

http://qorum.quantummethod.org.bd/

http://qorum.quantummethod.org.bd/viewtopic.php?f=884&t=10950

 

আরও কিছু কথা

উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে রাষ্ট্র আইন অনুসারে ব্যক্তি মালিকানাধীন বা দখলাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেসরকারি সম্পত্তি গ্রহণের জন্য ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ১৯৮২’অনুসরণ করা হয়। ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ১৯৮২’আইনে অধিগ্রহণ করা স্থাবর সম্পত্তির মালিককে কিছু সুবিধাদি প্রদান করা হয়েছে। যেমন; এই আইনে অধিগ্রহণের বিষয়ে জমির মালিকের আপত্তি তোলার সুযোগ আছে এবং আইনানুসারে এইসব আপত্তি নিষ্পত্তি করারও বিধান আছে। জমির হুকুম দখল প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আইনানুসারে ডেপুটি কমিশনার ৮ ও ৯ ধারা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান বা সরকারি ট্রেজারিতে গচ্ছিত রাখা সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করবেন। ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরনের সাথে ৫০% অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। অধিগ্রহণকৃত জমি যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই আইন অনুসরণের ব্যত্যয় লক্ষ্য করি। বিশেষত জনগণের উপত্তি আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মনোযোগি হতে দেখা যায় না। অন্যদিকে প্রকল্পের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সাথে খোলামেলা আলোচনার চর্চাও দেখা যায় না। একভাবে বল প্রয়োগের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়; যার ফলে প্রতিটি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে গণঅসন্তোষ লক্ষ্য করা যায়।

 জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুসারে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে: (ক) ৩ ধারার নোটিশ জারির দিনে সম্পত্তির বাজার মূল্য (বাজার মূল্য নির্ধারণের সময় জেলা প্রশাসক একই পারিপার্শ্বিক সুবিধাযুক্ত সম্পত্তির বিগত বার মাসের গড়পড়তা মূল্য বিবেচনা করবেন); (খ) দখল গ্রহণের সময় ঐ সম্পত্তির উপর বিদ্যমান শস্য বা বৃক্ষ গ্রহণের ফলে ক্ষতি; (গ) সম্পত্তি হতে পৃথককরণজনিত কারণে ক্ষতি; (ঘ) বাসস্থান বা কর্মস্থল স্থানান্তরে বাধ্য হলে স্থানান্তরের জন্য আনুষঙ্গিক খরচ; (ঙ) ৬ ধারার নোটিশ জারি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক দখল গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে সম্পত্তির মুনাফা হ্রাসের ফলে যে ধরনের ক্ষতি; (চ) জোরপূর্বক অধিগ্রহণ বিবেচনায় বাজার মূল্যের উপর আরও পঞ্চাশ শতাংশ ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং প্রদানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পে যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থ সহায়তা দেয় এবং যেসব প্রতিষ্ঠান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে তাদের নিজস্ব কিছু নির্দেশিকা রয়েছে যা বিদ্যমান আইনের সাথে সমন্বয় সাধন করে প্রতিপালন করা হয়। যেমন মাতারবাড়ি প্রকল্পের অর্থ সহায়তাকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে জাইকা, যাদের ভূমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা বা নীতিমালা রয়েছে যা ঔওঈঅ এঁরফষরহব ভড়ৎ ঊহারৎড়হসবহঃষধ ধহফ ঝড়পরধষ ঈড়হংরফবৎধঃরড়হং ২০১০ নামে পরিচিত। জাইকা নির্দেশনা অনুসারে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উপযুক্ত মানুষের ধরন বাংলাদেশ সরকারের অধ্যাদেশ থেকে আরো অধিক। এই কর্ম পরিকল্পনায় অনৈচ্ছিক পুনর্বাসনের জন্য তিনটি উপাদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। জাইকা নির্দেশিকা মতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উপযুক্ত মানুষের মধ্যে আছে: (১) সম্পত্তি, আয়ের উৎস এবং জীবিকা নির্বাহের সংগতি হারানো এবং ভূমির উপর আইনি দাবিহীন কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এমন মানুষের ক্ষতিপূরণ; (২) স্থানান্তরের স্থান এবং যথোপযুক্ত সুবিধাদিসহ স্থানান্তরের জন্য আর্থিক সহযোগিতা এবং(৩) অন্ততপক্ষে বর্তমান অবস্থার সমপর্যায়ে পুনর্বাসন করা।

 জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনুসৃত প্রক্রিয়াসমূহ

 ১. অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে নোটিশ প্রেরণ: সরকার কোন প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে জেলা প্রশাসক জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুসারে সম্পত্তি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে খতিয়ান অনুসারে জমির মালিককে প্রাথমিক নোটিশ (৩ ধারা নোটিশ) জারি করে। ৩ ধারার নোটিশ জারির পর ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ডেপুটি কমিশনার বরাবর ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তাদের আপত্তি উত্থাপন করতে পারে। আপত্তি নিষ্পত্তি হলে জেলা প্রশাসন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষতিপূরণ প্রদানের নোটিশ (৬ ধারার নোটিশ) জারি করে। সর্বশেষ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের নোটিশ (৭ ধারা নোটিশ) জারি করে। ৭ ধারার নোটিশের পর জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইনানুসারে ৭ ধারা নোটিশ জারির পর উন্নয়ন কাজ শুরু করা যায়; এজন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দাখিলের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা জমির মালিকদেও দায়িত্ব।

 ২. ক্ষতিগ্রস্ত কর্তৃক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ফাইল প্রস্তুতকরণ: ৭ ধারার নোটিশ জারির অর্থ নোটিশকৃত জমির মালিক জেলা প্রশাসক। নোটিশকৃত জমির মালিকগণ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দাখিলের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবীর আইনগত ভিত্তি লাভ করেন। ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য যেসব প্রমাণাদি প্রয়োজন হয় তার মধ্যে আছে; (১) স্থানীয় চেয়ারম্যানের কর্তৃক সত্যায়িত ছবি, (২) নাগরিকত্ব সনদ, (৩) বিএস খতিয়ানের মূল/সার্টিফাইড কপি, (৪) হাল সনের খাজনা দাখিলা, (৫) ওয়ারিশ সনদপত্র, (৬) রোয়েদাদনামা, (৭) ক্ষমতাপত্র (নাদাবিপত্র), (৮) বণ্টননামা, (৯) হস্তান্তরিত দলিল (১০) ৭ ধারা নোটিশে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণের প্রমানাদি।

 ৩. ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ফাইল জমাকরণ: প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ফাইল জমা দিতে হয়। ফাইল জমাকরণের পর একটি রেজিস্ট্রার বুকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারীর নাম, খতিয়ান নম্বর, ৭ ধারা নোটিশের রোয়েদাদ এবং জমির পরিমাণ লিখে একটি সিরিয়াল নম্বর দেয়া হয়। এই সিরিয়ার নম্বর অনুসারে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা হয়।

 ৪. ক্ষতিপূরণের দাবির বিষয়ে সার্ভেয়ার/কানুনগোর প্রতিবেদন: দাখিলকৃত ক্ষতিপূরণ দাবির ফাইলের সত্যতা ও রোয়েদাদের সত্যতা যাচাইপূর্বক ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার ও কানুনগো প্রতিবেদন প্রদান করে। জমির মালিকানা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং নাদাবিপত্রসহ সব কিছু যাচাই করার পর এই প্রতিবেদন দেয়া হয়। সার্ভেয়ার এবং কানুনগোর প্রতিবেদনে যদি দাবিকৃত ফাইলের তথ্যাদি সত্য বলে বিবেচিত হয় তাহলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোন আইনি বাধা থাকে না। সার্ভেয়ার ও কানুনগো প্রতিবেদনে কোন আপত্তি থাকলে সে অনুযায়ী পরবর্তী তথ্যাদি দাখিল করতে হয়।

 ৫. আরবিট্রেশন সমাধানে মিস কেস: সার্ভেয়ার ও কানুনগোর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জমির মালিকানা কেন্দ্রিক বা অন্য কোন ধরনের জটিলতা থাকলে এডিসি রেভিনিউ বরাবর মিস কেসের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হয়। মিস কেসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে যে কোন আরবিট্রেশন সমাধান করার নিয়ম রয়েছে।

 ৬. ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান: সার্ভেয়ার ও কানুনগোর প্রতিবেদন সাপেক্ষে দাখিলকৃত ফাইল ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির উপযুক্ত বিবেচিত হলে ক্ষতিপূরনের চেক প্রদান করা হয়।

 ৭. ক্ষতিপূরণের চেকে এডভাইস গ্রহণ: গৃহীত ক্ষতিপূরণের চেক দ্বারা টাকা উত্তোলন করতে চেকের উপর এডিসি রেভিনিউ কর্তৃক এডভাইস প্রয়োজন হয়।

 ৮. এডভাইস প্রাপ্ত চেকে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমোদন: এডিসি রেভিনিউ’র এডভাইস প্রাপ্ত চেকের উপর ট্রেজারি শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানের পর ঐ চেক টাকা উত্তোলনের জন্য উপযুক্ত হয়।

 ৯. ব্যাংকে চেক জমা দান: হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রাপ্ত চেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসেবে জমা দিলে ঐ নির্দিষ্ট হিসাবে টাকা জমা হয়।

 যে কোন ধরনের অস্পষ্টতা নিরসনে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুসরণ করতে হবে।


Land Acquisition Process.docx Land Acquisition Process.docx
Muslim Succession(uttaradhikar) Act of Bangladesh.pdf Muslim Succession(uttaradhikar) Act of Bangladesh.pdf
Land Law Of Bangladesh.pdf Land Law Of Bangladesh.pdf
Land Registration Law Of Bangladesh.pdf Land Registration Law Of Bangladesh.pdf
Land Measurement and Survey.pdf Land Measurement and Survey.pdf