মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ

মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ

মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কারণ এ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক লে.কর্ণেল এম. এ. রব। এছাড়াও ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর সারাদেশে যে প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় হবিগঞ্জে এ বাতাস প্রভাবিত হয়। মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার মানসে এ এলাকার স্বাধীনতাকামী জনগণ সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করে। ছাত্রলীগ নেতা পাকিস্তান কেডেট কোর ট্রেনিং প্রাপ্ত বি, বাড়িয়া কলেজ ছাত্র মোহাম্মদ আলী পাঠান ১০ মার্চ বি, বিড়িয়ার এস,ডি, ও কাজী রকীব উদ্দিন থেকে ১০ টি রাইফেল নিজের নামে বরাদ্দ করে মাধবপুর নিয়ে আসেন। স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীসহ কিছু সংখ্যক সাহসী যুবক এসব রাইফেল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে। ইতোমধ্যে ৬ মার্চ সকাল ৮ ঘটিকায় হবিগঞ্জ জয়বাংলা বাহিনী প্রধান ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ উদ্দিনের অভিবাদনের মাধ্যমে গাঢ় সবুজ জমিনের মধ্যস্থলে স্থাপিত লাল সূর্য গোলকের মাঝে সোনালী বর্ণের বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত জাতীয় পতাকা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী এম,এন,এ-এর বাসার কাছে ছাত্রলীগ অফিসের সামনে তৎকালীন মহকুমা  ছাত্রলীগ ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ শাহজাহান উত্তোলন করেন।

১৮ মার্চ মাধবপুর থানার এক সভায় মানিক চৌধুরী অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধে শরিক হয়োর জন্যে দেশপ্রেমিক জনগণকে উৎসাহিত করেন। ঐ দিন তিনি স্বাধীন বাংলার পতাকা মোহাম্মদ আলী পাঠানের কাছে হস্তান্তর করে। ১৯ মার্চ মাধবপুর থানার  সর্বপ্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয় জগদীশপুর জে,সি, উচ্চ বিদ্যালয়ে । পতাকা উত্তোলন করেন  মওলানা আসদ আলী এম,পি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজী কবির উদ্দিন (গিলাতলী), রফিক উদ্দিন আহমেদ (বানেশ্বর), আব্দুল মতিন (বেলঘর), দুলাল চৌধুরী (আন্দিউড়া), মোহাম্মদ আলী পাঠান (কৃষ্ণ নগর), সৈয়দ মুর্শেদ কামাল (ন্যাপ মোজাফ্ফর কেন্দ্রীয় নেতা খান্দুড়া), আনোয়ার চৌধুরী (কড়ড়া) সৈয়দ আসরাফুল হোসেন ফুল মিয়া (চাড়াভাঙ্গা), সৈয়দ নূরুল আমীন (বেলঘর), শাহ্ মোহাম্মদ ফিরূজ আলী (বিএড টিচার জগদীশপুর জে,সি, উচ্চ বিদ্যালয়) ও আরো অনেক। ২০ মার্চ মোহাম্মদ আলী পাঠানকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ মাধবপুর থানা কমিটি গঠন করা হয়। সদস্য সচিব দুলাল মিয়া চৌধুরী, সদস্য মওলানা আসাদ আলী এম,পি, শরীন্দ্র রায়, বিনোদ মোদক, গোলফ খান, আব্দুল বারিক প্রমুখ। মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, ‘‘ আমরা সেদিন ইউনিয়ন সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদও গঠন করেছিলাম। যেমন ধর্মঘর ইউনিয়নে তাজুল ইসলাম, আব্দুন নূর, চৌমুহনী ইউনিয়নের সেলিম চৌধুরী, রমজান আলী মান্নান, বহরা ইউনিয়নের কাজী জিয়া উদ্দিন, কামেশ কর, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, আদাঐর ইউনিয়নের রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী, শহীদ চৌধুরী ও শুনীল দাস।

১৫ জুন একটি স্বরণীয় অপারেশন সংঘঠিত হয়। সিলেট-আখাউড়া সেকশন রেলপথে। রেলপথ দিয়েই সিলেটসহ অন্যান্য স্থানে পাক বাহিনীর সৈন্য ও অস্ত্রসস্ত্র আনা -নেয়া করত। সড়ক পথ ছিল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের খাদ্য সরবরাহ করা হত  এ পথে, তাই তারা মরিয়া হয়ে উঠে যে কোন ভাবে রেলপথ চালু রাখার জন্য। এ পরিবহন পথ মুক্তি বাহিনী কোন ভাবেই যেন ধ্বংস করতে না সেজন্যে তারা সমগ্র রেললাইনে প্রহরায় নিযুক্ত করে রাজাকার বাহিনী। রেল সেতুগুলোতে থাকত তাদের  সার্বক্ষনিক পাহাড়া। রাজাকার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে  পাক বাহিনী পর্যায়ক্রমে লোকজন নিয়ে আসত রেল সেতু প্রহড়ার কাজে। এড়া প্রহড়ায় আসতে বাধ্য ছিল, অন্যথায় কঠোর শাস্তি। তারপরও আক্রমণ হয়। বিচ্ছিন্ন হয় রেলপথ। উড়ে যায় সেতু। ধ্বংস হয় রেলগাড়ি। প্রাণ দিতে হয় পাক সৈন্যদের। এসমস্ত অপারেশনের নায়ক ছিলেন লেঃ মুরশেদ। সৈয়দ মিয়া, রফিকুল ইসলাম, সুলতান মিয়াসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাকে সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে পাক বাহিনী ইঞ্জিনের সাথে কয়েকটি মালবাহী ওয়াগন যুক্ত করে গাড়ি চালাত। তবুও রক্ষা হল না। বাংলার মাটিতে তাদের রক্ষা নাই। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হত ‘‘বাংলা বাঙ্গালির স্থান, বাংলাত নয় পাকিস্তান’’। আর সেই বাংলা থেকে পাকিস্তানীদের উচ্ছেদ করার যত ধরনের ফাঁদ পাতা দরকার, তার সব কিছুই মুক্তি সেনারা করতে থাকে। ১৫ জুন শাহজী বাজারের কাছে একটি রেল সেতুতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানী সৈন্য বাহিনীর একটি ট্রেন ধ্বংস করা হয়। এতে ১৫০ জন পাকিস্তানী সৈন্য খতম হয় বলে মুক্তি ফৌজ সদর দপ্তর  থেকে জানানো হয়েছিল।

যুদ্ধের কৌশলগত কারণে তেলিয়াপাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সর্বপ্রথম অনুধাবন করেছিলেন মেজর খালেদ মুশাররফ। পরবর্তীতে এস্থানটি জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেছিল। একাত্তরের ৪ এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধের সমর কৌশল নির্ধারণ বিষয়ক নীতি নির্ধারণ সভা এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় বাংলাদেশকে এগারটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। এ তারিখে ৪ এপ্রিলে কর্ণেল  ওসমানী ( পরে জেনারেল ওসমানী)  আগরতলা থেকে তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে আসেন।

ছবি


সংযুক্তি

AJMIRIGANJ.pdf AJMIRIGANJ.pdf



Share with :

Facebook Twitter